পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতীক বৈষম্য সহ যে সব কারনে দেশে সর্বগ্রাসী দূর্নীতি ও কিছু একচোখা রাজৈনৈতীক ব্যাক্তিত্ব তৈরী করেছে সে কারনে এখন দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পথটা রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে
একটি ভাবনা সাম্প্রতিক কালে খুব মাথাব্যাথার কারন হয়ে গেছে। বিচার বিশ্লেষন বাদ দিলে পরে জীবনে বাকি থাকছে আর কি। ভাষা আন্দোলনের সুফল এখনও অনেক বাঙালী জীবনে অদৃশ্য। এই অঞ্চলটি অতীত হতেই বিশ্ব রজনীতির ঘুটি হিসাবে গুরুত্বপূর্ন ছিলো। ইতিহাসের ব্যর্থতায় আমরা এর সম্বন্ধে আলোকপাত করতে বারংবার ব্যার্থ হয়েছি। অথচ ভাষা আন্দোলনের আমরাই অগ্রপথিক।
রবীন্দ্রনাথকে পাকিস্তানী দোস্তিতে ভাগ করতেও দ্বিধা হয়নি বাংগালীর, সময় সাক্ষী। অনেক বুদ্ধিজীবি হত্যার ঘটনার দৃস্টিতে এটা দেখলে এর মধ্যে যে ষড়যন্ত্রের চিত্রটি রয়েছে তা পরিস্কার হয়।এখনও আমাদের জাতীয় বোধ অনেকেরই চক্ষুশূল।আর আমরাও যেন আশ্চর্য্যজনক ভাবে আজকের এই দিনেও ইতিহাসের ক্রীয়নক হতে পারলেই যেন বাধিত হই। ভাষা শহীদদের বলীদান তো বৃথা যেতে পারে না।
অধিক সন্যাসীতে নাকি গাঁজন নস্ট। তাই বলে বিচার বিশ্লেষনের ক্ষমতা একদমই হারিয়ে শুধু নুতন নুতন মামলা নিয়ে আসা আর হাজিরা দিলেই কি আর পোড় খাওয়া অবহেলিত বাঙালীর মুক্তি হবে। বৈষম্যের কারনে কঙ্কালসার মানুষের পাঁজরের ভিতর দিয়েই বেড়ে উঠছে বৈষম্য নিয়ে টিকে থাকা সেইসব অভিশাপ।
এদেশই মনে হয় বিশ্বের একমাত্র দেশ যেখানে আমলাতন্ত্রে নানামুখী কর্মতৎপরতার মধ্যে ব্যার্থতার আলোচনাই সবচেয়ে বেশী হয় এবং ফলাফলটা হল এমন যে কিছুটা দেরী হলেও ভয়ানক ভয়ানক সব উপাখ্যান বা গল্প কাহীনির জন্ম হচ্ছে। ডালপালা মেলছে নানান বৈষম্যের আজব কেচ্ছা। কাদের জীবনে বৈষম্য। আজ যে ব্যাক্তি ডাকসাঁইটে একজন আমলা সময় ফুরালেই রিটায়ারমেন্টে গিয়ে পেনশানের জন্য তাঁকেই ইঁদুরের দৌড়টি শুরু করা লাগে। এই চিত্রের সমন্বয় কে করবে তবে প্রাইভেট অর্গানাইজেশন বিগ বসেরা? তাঁদের অফিসে বসে?
এদেশে এতসব আপাতঃ উন্নয়নের আসল চিত্র হচ্ছে এসব। তাহলে ভেতরে ভেতরে জনগন পরস্পরের দেখভাল ছাড়া আর কি নিয়ে কথা বলতে চাইবে? নাকি এভাবেই অন্যায়ের পৃষ্ঠপোষকতা করতে দিয়ে আরেকজনের পথটা আটকে দিয়ে পরে বিদেশীদের সাহায্যের জন্য তাকিয়ে থাকবে। কারন ভাষা আন্দোলনের চেতনা পাকিস্তানীরা আমাদের মাথা থেকেই ব্রেইন ওয়াসা করে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছে অনেক আগেই।তাই স্বাধীনতার এতকাল পরেও আমরা বিদেশীদের ক্রিড়নক হতেই বেশী পছন্দ করছি এবং এটা করছি অবলীলাক্রমে একটি মহান আন্তর্জাতীকতার নামে। এসব বিষয়ের কূফল একদম ঘরের দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বিধায় আমরা সামাজিক ন্যায়বিচার ভাষাভিত্তিক উপায়ে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যার্থ হয়েছি স্বাধীনতার এতদিবস বাদেও। হাজার হাজার এনজিও গুলির কর্মকান্ডও সমালোচনার উর্ধে নয়। সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তারাও তো নিজেদের অজ্ঞতাকে আর ঢেকে রাখতে পারবে না। তবু কেন বিদেশীদের কাছেই আবার শালীশ নিয়ে যাচ্ছে।
উর্দূই হবে পাকিস্তানের রাস্ট্রভাষা। উত্তরটা ছিলো এরকম সংক্ষিপ্ত, ''না না''। ব্যাস শুধু কি এইটুকুই ছিল আমাদের বক্তব্য। না, আমরা জানি সেটাই ছিল শুরু। শোষনের নানা রূপ এখনও চারপাশে রয়ে গেছে বহাল তবিয়ৎ এ।পুরাতন ক্ষত চিহ্নগুলি ধুয়ে মুছে আঙ্গীনা তকতকে করে রাখছি আবারও আমরাই।
প্রশ্ন উঠতেই পারে যে আমিতো পড়ালেখা শুরুই করলাম না। পরীক্ষার জন্য তৈরী প্রশ্নপত্র কি হবে আমার জীবনেও জানার তো কথা না। তাহলে আমি এই পরীক্ষায় ফেল করবো নাকি পাশ করে যাবো এই প্রসঙ্গটা কিভাবে সামনের কাতারে আসবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন